ঢাবিতে পছন্দের বিভাগই পেলেন সেই হৃদয় সরকার

Spread the love

অনলাইন ডেস্ক :

অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের পছন্দের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেলেন ‘সেরিব্রাল পালসি’তে আক্রান্ত আলোচিত হৃদয় সরকার।

বুধবার এই বিভাগে ভর্তির বিষয় নির্ধারিত হওয়ার পর তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

হৃদয় জানান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হতে পেরে তিনি ভীষণ খুশি। কেননা তিনি এই বিভাগেই পড়তে চেয়েছিলেন। এতে স্বপ্নের কাছাকাছি আরেকটু এগিয়ে গেলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এর সঙ্গে দেশবাসীর কাছে দোয়াও চেয়েছেন এই শিক্ষার্থী।

গত ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার দিন মা সীমা সরকারের কোলে করে পরীক্ষার হলে আসেন হৃদয় সরকার। ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সাড়া পড়ে।

ভর্তি পরীক্ষায় হৃদয় সরকার বাংলা অংশে ৯ দশমিক ৩০, ইংরেজি অংশে ১৪ দশমিক ৪০ ও সাধারণ জ্ঞান অংশে ২৭ দশমিক ৯০ নম্বরসহ মোট ১২০ দশমিক ৯৬ নম্বর পেয়ে ৩ হাজার ৭৪০তম হন।

প্রতিবন্ধী কোটায় ভর্তির আবেদন করেছিলেন হৃদয়। কিন্তু এসময় দেখা দেয় বিপত্তি। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী কোটার ফরম সংগ্রহ করতে গেলে তাকে জানানো হয়, তিনি ওই কোটার মধ্যে পড়েন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিতে প্রতিবন্ধী কোটায় শুধু দৃষ্টি, শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী-এই তিন ধরণের প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে কোটা প্রযোজ্য হবে। এখানে শারীরিক বা অন্য কোন ধরণের প্রতিবন্ধীরা কোটায় ভর্তি হতে পারবেন না।

এতে হৃদয় এবং তার মা ভেঙে পড়েন। এ সময় আবারও আলোচনায় আসেন হৃদয় সরকার। এক পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী কোটার বিধিমালায় সংস্কার এনে শারীরিক প্রতিবন্ধীদেরও যুক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ তৈরি হয় হৃদয় সরকারের।

এর আগেই সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত হৃদয় সরকারকে নিয়ে যুদ্ধের জন্য বিশ্বের ১০০ অনুপ্রেরণাদায়ী মায়ের তালিকায় আসন করে নেন হৃদয়ের মা সীমা সরকার। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি তাদের করা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্বের ১০০ অনুপ্রেরণাদায়ী ও প্রভাবশালী নারীর তালিকায় ৮১তম অবস্থানে রয়েছেন তিনি। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে মা-ছেলের অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের গল্প।

এ বিষয়ে সীমা সরকার বলেন, প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, তারপর পছন্দের বিষয়ে সুযোগ পাওয়া আমার এতদিনের সব কষ্ট আজ দূর হয়ে গেল। তিনি তার ছেলের জন্য সবার কাছে দোয়া চান এবং সবসময় পাশে থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

© 2018, BD News Point. All rights reserved.

Related posts

Leave a Comment